ফজরের পূর্বে কুয়াশার মধ্যেই ৮০-৯০ গতিতে সাঁসাঁ করে ছুটে চলছি।

ফজরের পূর্বে কুয়াশার মধ্যেই ৮০-৯০ গতিতে সাঁসাঁ করে ছুটে চলছি। হাতে সময় খুব কম।
চরফ্যাশন থেকে বোরহানুদ্দীনে সরকারী কলেজের প্রিন্সিপ্যাল স্যারের বাসার সামনে আসতেই গেট খুলে ভিতরে আমন্ত্রণ জানালেন।
সোজা হাটা দিলেন আমরা পেছন পেছন গিয়ে বাড়িটির দক্ষিণ পশ্চিম কোনে দাঁড়ালাম।
এখানে দুটি কবর। নতুন কবরটিতে সদ্য রোড এক্সিডেন্টে বিদায় নেয়া স্যারের স্ত্রী অপরটিতে মা সমাধিত।
জিয়ারতে দোয়ায় আবেগাপ্লুত, কান্নার রোল পড়ে গেল। অশ্রু বাধা মানেনা।

জীবদ্দশায় আমাকে অনেক দাওয়াত করেছিল, অত্র এলাকার শ্রেষ্ঠ মনোরম বাড়িটিতে আসার সময় করতে পারিনি।
আজ তাদের সাজানো গোছানো চমৎকার বাড়ির বিশাল আঙ্গিনা যেন শূন্যতায় হাহাকার করছে!

স্যার এবার হজ্বে আমার সাথী হয়েছিলেন। হজ্বের পর থেকে তিনি অস্থির কান্নাকাটি করছেন, তাকে নিয়ে আমি মক্কা থেকে মদীনায় চলে এলাম, রাতে পৌছে রওজাশরীফ যিয়ারত করে ফজরের পর মদীনার অলিগলি সব খানে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিকেলে আবার মক্কায় ফিরে এলাম।

স্যার বাড়িতে ফেরার জন্য ব্যকুল। যে ফ্লাইটের টিকেট তা এখনো ১৫ দিন বাকী।
স্যার আবদার করলেন আজই বাংলাদেশে যেতে চান, পরিবার সহ আবার আসবেন। আমি যেন সব ব্যবস্থা করি।
নতুন ইমারজেন্সী টিকেট কেটে বিদায় জানালাম।

দেশে ফেরার পর অনেকবার তারা আমাকে স্মরণ করলেন। আবার বাইতুল্লায় যাওয়ার জন্য তৈরি হচ্ছেন। আমি যেন একটু দাওয়াত নেই।

ইতিমধ্যে মর্মান্তিক দূর্ঘটনায় জীবনটা এলোমেলো। একজন স্বামী তার স্ত্রীকে কতটা ভালবাসতে পারেন তার জীবন্ত উদাহরণ হলেন এই মাহবুবুল আলম স্যার। তাদের একটি মাত্র সন্তান। অত্যন্ত শান্তশিষ্ট ও ভদ্র। ছেলেটির প্রতি সকলেরই মমতা আসে।

তারা উভয়ে আমাকে যে মহব্বত করে তা ভাষায় ব্যক্ত করার নয়।
এই অল্প সময়ে তাদের আপ্যায়নে আমি মুগ্ধ।
আসলে আপ্যায়নের আড়ালে তারা শূন্যতাকে লুকবার চেষ্টা করছিলেন।
হাসিখুশি গল্প করে কিছুটা সময় কাটালাম। এখনি আবার আমকে পরবর্তী প্রোগ্রামে যেতে হচ্ছে।
তারা অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন।
আমি অনেকদূর চলে এসেছি তবু যেন মনটা এখনো তাদের কাছে!
আল্লাহ তাদের সহায় হোন….

2 Replies to “ফজরের পূর্বে কুয়াশার মধ্যেই ৮০-৯০ গতিতে সাঁসাঁ করে ছুটে চলছি।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *